শেষ চার ম্যাচে হেরেও বাংলাদেশকে নিয়ে কটাক্ষ করার আফ্রিদীর সাহস হয় কি করে!

252

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেয়ার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করেন আফ্রিদী। অথচ শেষ ৪ ওয়ানডের কোনটিতেই বাংলাদেশের সাথে জিততে পারেনি পাকিস্তান। তারপরও টাইগারদের নিয়ে এমন মন্তব্যের সাহস কোথা থেকে পান আফ্রিদী!

ঘটনা গত ১২ মার্চের। অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সরফরাজদের বিশ্রামে দেওয়া কতটা যৌক্তিক সে ব্যাপরে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশকে টেনে আনেন আফ্রিদি। আফ্রিদি তার বক্তব্যে বলেন, “দেখুন, সিরিজটা যদি বাংলাদেশ বা জিম্বাবুয়ের মতো র‍্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ-সপ্তম বা অষ্টম দলের সঙ্গে হতো, তাহলে নাহয় বোঝা যেত যে বিশ্বকাপের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু সিরিজটা অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী এক দলের সঙ্গে। বিশ্বকাপের আগে এমন শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেললে ওই সব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের কারণেই হয়তো আমরা বেশ কিছু ম্যাচ জিততাম, যেটা বিশ্বকাপের আগ দিয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিত। আমার মনে হয় তারা দলের সঙ্গে থাকলেই ভালো হতো। এমন তো না যে তারা ১৫-২০ বছর ক্রিকেট খেলেছে, তারাও তো কয়েক দিন আগে থেকেই খেলা শুরু করেছে। তাই তাদের দলে রাখলেই বোধ হয় ভালো হতো।’

ইচ্ছা করেই এবং স্বজ্ঞানে শহিদ আফ্রিদি তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে টেনে এনে এবং এ দেশের ক্রিকেটকে ছোট করে বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচার করলেও আফ্রিদির এই বক্তব্য কোনোভাবেই মানায় না। এই তো মাত্র কিছুদিন আগেও এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

এমনকি মাত্র কয়েক দিন আগেও আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পেছনে ছিল আফ্রিদির দেশ পাকিস্তান। বিশ্বকাপে সরাসরি যে আটটি দল খেলবে এবং ওই আট দল নির্ধারণের যে সময়সীমা ছিল (২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর), ওই সময় পাকিস্তান একবার বাংলাদেশের পেছনে চলে গিয়েছিল।

কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশ র‍্যাংকিংয়ে চলে এসেছিল ৬ নম্বরে। পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশের পেছনে, আট নম্বরে। এখনও পাকিস্তানের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলাদেশ। তারা রয়েছে ছয়ে, বাংলাদেশ সাতে।

আফ্রিদির ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গস্পর্শী অবস্থায়, তখন না হয় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অনেক পেছনে এবং পাকিস্তান ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সময় থেকে ক্রিকেট বিশ্ব দেখছে এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। এরপর ৯বার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ৬বারই জিতেছে টাইগাররা। মুখ নিচু করেই মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে।

নয় ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান খেলেছে তিনটি টি-টোয়েন্টি, চারটি ওয়ানডে আর দুটি টেস্ট। দুটি টেস্টের একটি ড্র ও একটিতে জিতলেও ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পাচ্ছে না পাকিস্তান। তিন টি-টোয়েন্টির দুটিতেই হেরেছে, হেরেছে চারটি ওয়ানডের প্রত্যেকটিতে।

এমনকি আফ্রিদি নিজেও হারের স্বাদ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের কাছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সফরকারীদের অধিনায়ক ছিলেন আফ্রিদি। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারতে হয়েছিল পাকিস্তানকে এবং ওই ম্যাচেই জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের আজকের সেনসেশন এবং বিশ্বে এক নামে পরিচিত কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

এসব লজ্জাজনক পরাজয়ের কথা হয়তো বেমালুম ভুলে গেছেন আফ্রিদি কিংবা অন্তরের কোনে বাংলাদেশ নিয়ে পুষে রাখা বিদ্বেষ থেকেই হয়তো এই দেশের ক্রিকেটকে এমন কটাক্ষ করে কথা বলতে পারলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here