আট মাস বয়সী তাসনিমকে বাঁচান!

39
তাসনিম জাহান।

মোহাম্মদ জাহিদুল একজন আট মাস বয়সী ফুটফুটে মেয়ের বাবা। কাজ করেন নারায়ণগঞ্জের রড-সিমেন্টের একটি দোকানে। তবে তাঁর জীবন সমাজের অন্য সবার মতো স্বাভাবিক ধারায় চলছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা খাটুনির পর ঢাকার ডেমরায় লম্বা ভ্রমণক্লান্তি নিয়ে বাসস্থলে ফেরা মানুষটা বর্তমানে জীবনের সকল স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে লড়ে যাচ্ছেন শুধু নিজের ‘পরীকে’ বাঁচানোর জন্য।

জাহিদুলের পরী অর্থাৎ মেয়ে তাসনিম জাহান ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। জাইয়ুবুল মাসিক মাত্র দশ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। এর সিংহভাগই তাঁর যাতায়াত ও বাড়ি ভাড়াতেই খরচ হয়ে যায়। এ বছরের প্রথমদিকে হঠাৎ তাসনিমের জ্বর উঠলে তিনি মেয়েকে নিয়ে যান নায়াণগঞ্জের এক ডাক্তারের কাছে। সেখানে দুই দফার চেক আপে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার।

পরে মেয়েকে ভর্তি করান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালে যেখানে তাসনিমের সাতদিন নানা রকম পরিক্ষা করানো হয়। তবে সেখানকার ডাক্তার-নার্সদের অত্যাচারে ৭ দিন পরেই সেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তবে বাড়ি যাওয়ার দিন নার্সদের রুমে গিয়ে মেয়ের হাত থেকে ক্যানোলা খুলে দেয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করার পর আড়াই ঘণ্টা দেরিতে এসে এক নার্স মেজাজ দেখিয়ে এমন জোরে সেটি খুলেন যে তাসনিমের হাতের মাংস ছিঁড়ে চলে আসে পাইপের সঙ্গে। এদিকে ৭ দিনেই তাঁদের ফি আসে ৭০০০০ টাকা।

এরপর প্রতিবেশীদের পরামর্শ মতে এবং আত্নীয়দের সহায়তায় পাওয়া প্রায় তিন লাখ টাকায় মেয়েকে নিয়ে যান ভারতের মুম্বাইয়ে টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারে। সেখানকার ডাক্তাররা তাঁদের জানান, ৬ মাস সেখানে চিকিৎসা নিলেই ৮০ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে তাসনিম। কেমো থেরাপিতেই সুস্থ হয়ে যাবে সে। মোট ৪টা কেমো দেয়ার বিষয়ে বলেছিল সেখানে। একটা কেমো দিতে হয় কয়েকভাগে। তবে একটি কেমো থেরাপির মাত্র এক ভাগ করার পরই তাঁর হাতের সব টাকা ফুরিয়ে যায়। তখন ভারতীয় ডাক্তারদের জানালে তাঁরা বলেন বাংলাদেশে যেন থেরাপিগুলো ঠিক সময়ে দেওয়া হয়। নতুবা তাসনিমের মৃত্যু অনিবার্য।

এদিকে দেশে ফিরে নতুন এক সংগ্রাম শুরু করেন জাহিদুল। মেয়েকে নিয়ে আবার ছুটেন বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে। তবে এবার ভারতীয় ফাইল দেখে মেয়েকে ভর্তিই করান না তাঁরা। জাহিদুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মিরপুর ডেলটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক মোমেনা বেগমের চিকিৎসা নিচ্ছে তাসনিম। সেখানে কেমো থেরাপিও দেয়া হচ্ছে। আবার প্রতি সপ্তাহে ও পজিটিভ রক্তও দিতে হচ্ছে।

মেয়ের চিকিৎসায় তাঁর এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে পরবর্তি চিকিৎসার টাকা আপাতত তাঁর হাতে নেই। এদিকে আত্নীয় স্বজনদের কাছেও লজ্জায় আর টাকা চাইতে পারছেন না তিনি। তবে তাঁর বিশ্বাস, দেশে এমনো অনেকেই আছেন, যাঁরা মানুষাে সাহায্য করে তৃপ্তি পান৷ আর তাঁদের দেওয়া কিছু সাহায্যে হয়তো আরো সাত লাখ টাকা এসে যাবে।

চলুন তাসনিমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসি। তাসনিমকে সাহায্য করতে চাইলে ওঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। মোবাইল : ০১৬৩১-০১৭৪৩৩ (বিকাশ চালু আছে)। এছাড়াও সহযোগিতা পাঠাতে পারবেন তানিয়া আক্তার, হিসাব নম্বর : ১২৮১৫১২৩৩০৮, ডাচ বাংলা ব্যাক, শিমরাইল শাখা, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here