ব্রাজিল-হাঙ্গেরি,বিশ্বকাপ ফুটবলের এক জঘন্য ও কুৎসিত ম্যাচ

71

বিশ্বকাপের একটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ৪৪ টি ফ্রি কিক,দুটি পেনাল্টি,চারটি হলুদ কার্ড ও তিনটি লাল কার্ড! পরিসংখ্যানটা কি একটু গোলমেলে কিংবা অসত্য মনে হচ্ছে? কিছুটা গোলমেলে হতে পারে তবে পরিসংখ্যানটা কিন্তু একটুও অসত্য নয়। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রা এতটাই বাজেভাবে খেলতে থাকে যে রেফারিকে  বাধ্য হয়েই এমন রুদ্র মূর্তি ধারন করতে হয়।

এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ম্যাচ। ম্যাচের সময় বৃষ্টি হচ্ছিল,তাই কোন দলই তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিল না। তবে হাঙ্গেরি ঠিকই গোল করতে সক্ষম হয়। ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই হিদেকুটি ও ককসিসের গোলে ২-০ তে লিড নেয় হাঙ্গেরি। দালাম সান্তোসের পেনাল্টি থেকে করা গোলে খুব দ্রুতই এক গোল শোধ করতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। ম্যাচের আসল রূপটা দেখা যায় দ্বিতীয়ার্থ। মিহালি লান্তোস পেনাল্টি থেকে গোল করে হাঙ্গেরিকে ৩-১ গোলের লিড এনে দেন। কিন্তু ওই পেনাল্টির সিধান্ত পছন্দ হয়নি ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকও অফিসিয়ালদের। তারা তেড়ে-ফুঁড়ে মাঠে নেমে হল্লা করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে তাদের থামাতে হয়। এরপর থেকেই মাঠে রীতিমত কুংফু ফুটবল শুরু হয়ে যায়।

দুই দলের খেলোয়াড় ফুটবলের নয় বরং কারা কত বেশি ল্যাং ও লাথি মারতে পারেন সেই প্রতিযোগিতায় নামেন। ম্যাচের এক পর্যায়ে ফোসেফ বসজিককে ফাউল করেন নিল্টন সান্তোস। এই ফাউল নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি এমন পর্যায়ে যায় যে,রেফারিকে বাধ্য হয়েই দুনজনকে লাল কার্ড দেখাতে হয়। এরই মধ্যে উভয় দল একটি করে গোল করলে গোল ব্যাবধান ৪-২ গিয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে হাঙ্গেরির গাইয়ালাকে লাথি মারেন তজ্জি। ফলে তজ্জিকেও লাল কার্ডে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়ই প্রতিপক্ষের বেশকিছু বাজে ট্যাকেলের শিকার হন। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও দুই দলের এই যুদ্ধ কিন্তু থামে না।টানেলের মধ্যেও দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান। এছাড়া হাঙ্গেরি দলের ম্যানেজার গুস্তাব সেবেসেকে মুখে খেয়ে চারটি সেলাই দিতে হয়েছিল। হাঙ্গেরি এই ম্যাচ জিতলেও,মারামারিতে এগিয়ে থাকে ব্রাজিল।

এই ম্যাচের রেফারি ম্যাচ প্রসঙ্গে পরবর্তীতে বলেন,” তারা পশুর মতো আচরন করছিল যা ছিল খুব লজ্জাকর। এটা ছিল এক ভয়াবহ ম্যাচ। এখনকার দিনে হলে সবাই লাল কার্ড দেখত এবং খেলাটি নষ্ট হয়ে যেত।” দ্যা টাইমস পত্রিকার রিপোর্টার এই ম্যাচ প্রসঙ্গে লিখেন,”আমার জীবনে এরকম নৃশংস ট্যাকলিং কোন ফুটবল ম্যাচে দেখিনি। মনে হচ্ছিল তারা প্রতিপক্ষকে  লম্বা কাচি দিয়ে কুচি কুচি করে কেটে ফেলবে।”

আদনান আহমেদ,স্পোর্টসজোন টোয়েন্টিফোর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here