ব্যাটিংয়ে নিজের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন ইয়াসির আলী

71

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে যদি চাওয়ার-পাওয়ার হিসেব কষা হয় তবে যে নামটি সবার উপরে চলে আসে তা হলো ভাইকংস ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী। মনে করা হচ্ছে এবারের বিপিএলে টাইগারদের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়েছেন কয়েক ম্যাচে। সকলেরই মনে হয়ত প্রশ্ন জাগছিল কিভাবে সফল তিনি। অবশেষে সেই সফলতার রহস্য উন্মোচন করেছেন ইয়াসির আলী নিজেই।

নিজ শহর চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে তরুণ এই ব্যাটসম্যান প্রশংসা কুড়িয়েছেন সবার। ১১ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ৩০৭ রান করেছেন ইয়াসির। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন এই তরুণ।

গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে একান্ত আলাপে ইয়াসির বলেছেন, নিজের সহজাত ক্রিকেট খেলেই সফল হয়েছেন। বাহবা পেয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, চিটাগংয়ের মুশফিকুর রহিম ও দলটির বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও। বিপিএলের পারফরম্যান্সের পর নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাসটা আরও বেড়েছে চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটারের। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নটা বাস্তবায়নের নেশায় ছুঁটছেন ইয়াসির।

বিপিএলের শুরুর দিকে দুই ম্যাচে সুযোগ পাননি ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় ম্যাচ থেকেই আশরাফুলের জায়গায় একাদশে আসেন তিনি। তারপর আর পিছু ফিরতে হয়নি ইয়াসিরকে। চিটাগংয়ের হয়ে বাকি ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। নিজের প্রথম ম্যাচেই মিরপুরে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ওয়ানডাউনে নেমে ৩৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। খুলনার বিরুদ্ধেই প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন। খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। তারপর হোম ভেন্যু চট্টগ্রামে দল হারলেও টানা দুই ম্যাচে রংপুর, রাজশাহীর বিরুদ্ধে দুটি হাফ সেঞ্চুরি (৭৮, ৫৮) করেন ইয়াসির।

বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টিই ধরা পড়ল এই তরুণের কণ্ঠে। এর আগে তিনবার বিপিএল খেলেছেন ইয়াসির। কিন্তু এবারের বিপিএলই দেশব্যাপী তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছেন। গতকাল চট্টলার এই ক্রিকেটার বলেন, ‘এটা আমার চতুর্থ বিপিএল ছিল। গত তিন বছরে আমি ম্যাচ খেলতে পারিনি ওইভাবে। ২০১৫ সালেই সাতটা ম্যাচ খেলেছিলাম। এরপর শেষ দুই আসরে কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি আমার। তাই সেভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এবার বিপিএলে অনেকগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। আল্লাহর রহমতে ভালোই হয়েছে। তাই এই বিপিএলই আমাকে বড় পরিচিত এনে দিয়েছে।’

তবে নিজের ইনিংসগুলো বড় করতে না পারার আক্ষেপ ঠিকই পোড়াচ্ছে ইয়াসিরকে। ৪৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪৯.৩৪ গড়ে ৩ হাজার ১০ রান করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে আমি ৫৮, ৫৪ রানে যেসব আউট হয়েছি, আমার ওই ইনিংসগুলো আরও বড় করা উচিত ছিল। এ জায়গাটায় আমি বলবো, আমি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আর যে ম্যাচগুলোতে রান করতে পারিনি, সেগুলোতে তো প্রথম দিকেই আউট হয়ে গেছি।’

তিন নম্বরে ব্যাট করা ইয়াসিরকে নিজের সহজাত ব্যাটিং করার লাইসেন্সই দিয়েছিল চিটাগং ভাইকিংস। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রথম ম্যাচ ছিল, ওই ম্যাচের আগের দিন মুশফিক ভাই, নান্নু স্যার আমাকে বলেছিল যে, তুই খেলবি। তোর ন্যাচারাল ক্রিকেটাই খেলবি। এর বেশি কিছু চেষ্টা করার দরকার নাই। ওনারা বলেছিল, এটা খেয়াল করতে যেন আমার উইকেট আমি প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়ে না আসি। আমার উইকেট যেন তাদের কষ্ট করে নিতে হয়।’

ব্যাটিংয়ে, নিজের খেলায় উন্নতির জন্য ড্রেসিংরুমে ক্যামেরন ডেলপোর্ট, রবি ফ্রাইলিঙ্কদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইয়াসির। ব্যাটিংয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী তিনি। আগে ২-৩টা ডট বল হলেই বিচলিত হতেন। মুশফিক সাহস দেওয়ার পর এই সমস্যা কেটে গেছে তার।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ড্যামিয়েন মার্টিনের ভক্ত ইয়াসির। মূলত টেস্ট ক্রিকেট খেলার ইচ্ছাই লালন করছেন মনে। তবে মুমিনুল হকের কথায় অনুপ্রাণিত হওয়া ইয়াসিরের চোখ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার।

ইয়াসির বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা, জাতীয় দলে অনেক দিন খেলবো। দেশকে সার্ভিস দিবো। বিপিএলের পর আমার নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসটা আরও বেড়ে গেছে। আমি অবশ্যই পারবো, ইনশাল্লাহ।’

সুত্র- দৈনিক ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here