‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আর কোন সফর নয়’, পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন পাপন

62

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের হামলার ঘটনায় তোলপাড় বিশ্ব। হয়ত একটু এদিন হলে প্রাণ হারাতেন জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে এতেই নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। আজ এক সাংবাদসম্মেলন ডেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আর কোন সফরই করবেনা জাতীয় দল। তিনি বলেন,

‘দল যেখানেই যাক না কেন, আমাদের মিনিমাম পাওনা নিরাপত্তা আমাদেরই নিশ্চিত করে যেতে হবে। সেটা যারা দিতে পারবে সেখানেই আমরা খেলতে যেতে পারবো, এছাড়া আমাদের পক্ষে খেলতে যাওয়া সম্ভব নয়।’

দ্বিপাক্ষীয় সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডে আছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক দেশটির সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ খেলার পর তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দুটি টেস্ট খেলা শেষ হয়েছে। আগামীকাল থেকে ক্রাইস্টচার্চে শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলায় বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। হামলার কথা শুনে মসজিদ থেকে দ্রুত বের হয়ে টিম হোটেলে যান তারা। পরে নিরাপত্তার কারণে তৃতীয় টেস্ট বাতিল করা হয়।

নিউজিল্যান্ডে ওই হামলার পর নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি বলেন,

‘এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে যাতে বাংলাদেশ দলের আর কোনো সফর এমন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অনুষ্ঠিত না হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিসিবি সভাপতি বলেন,

‘আমরা দেশের মাটিতে যেকোনো ক্রিকেট দলের সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। রীতিমত ভিভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয় এবং যতটা নিশ্চিদ্র সম্ভব, ততটা নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাই দেয়া হয়।’

‘কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা বিদেশে গেলেও তা (সে ধরনের নিরাপত্তা) পাই না। এখন থেকে যেকোনো বিদেশ সফরে গেলে, বিশেষ করে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে বিসিবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেট করে দেবে। মানদন্ড তৈরি করে দেবে। যদি সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিরাপত্তা দেয়া না হয়, প্রয়োজনে আমরা সেই সফর বাতিল করবো কিংবা সিরিজই খেলতে যাবো না।’

আগামী মে মাস থেকে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে কী হবে এমন প্রশ্নে পাপন বলেন,

‘বিশ্বকাপে এমনিতেই আইসিসির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকে এবং আমার বিশ্বাস করি এই ঘটনার পর তা আরও জোরদার হবে।’

তারপরও পাপন বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখার ইঙ্গিত দেন।