ঝাঁপিয়ে হামলাকারীর অস্ত্র কেড়ে নেন এক সাহসী তরুণ, বাঁচান অনেকগুলো প্রাণ

237

সাহসী এক তরুণ ত্রাতা না হলে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে নিহতের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়তো। বর্বরোচিত সন্ত্রসী হামলায় আল নূর মসজিদে ৪১ জন মারা গেলেও লিনউড মসজিদে মারা যান সাতজন। প্রবল সাহস দেখিয়ে হামলাকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্দুক কেড়ে না নিলে সংখ্যাটা কোথায় ঠেকতো বলা মুশকিল।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া সৈয়দ মাজহারউদ্দিন নিউজিল্যান্ড হেলাল্ডকে বলছিলেন সাহসী ওই তরুণের কথা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নায়কোচিতভাবে আরও অনেককে বাঁচিয়ে উঠে এসেছেন সংবাদ শিরোনামে।

মাজহারউদ্দিন বলেন, যখন হামলাকারী মসজিদে ঢোকে তখন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন নামাজ আদায় করছিলেন। আচমকা ঢুকেই তিনি গুলি চালানো শুরু করেন।

এসময় এক তরুণ লিনউড মসজিদের বন্দুকধারীর উপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বন্দুক ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। কিন্তু হামলাকারী দ্রুত পালিয়ে বাইরে থাকা গাড়িতে চড়ে পালিয়ে যান।

আল নূর মসজিদেও একজন হামলাকারীর বন্দুক কেড়ে নিতে গিয়েছিলেন বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। তবে ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গেই গুলি খেয়ে মরতে হয়।

মাজহারউদ্দিন বলেন, আমার একজন বন্ধু মারা গেছেন হামলায়। আহত হয়েছেন কয়েকজন।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে, ওই তরুণ সাধারণত মসজিদ দেখাশোনা করতেন। হামলাকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্দুক কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ট্রিগার খুঁজে না পাওয়ায় পাল্টা হামলাকারীকে থামাতে পারেননি তিনি।

সৈয়দ মাজহারউদ্দিন হেরাল্ডকে বলেন, লিনউড মসজিদে যখন হামলা চালানো হয় তখন মুসল্লিরা প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। আমার এক বন্ধু এতে মারা গেছে। আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত ডিনস অ্যাভ মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এবং আরেকটি স্থানে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে অন্তত ৪৯ জন নিহত হন। এদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৯ জন। এদের মধ্যেও একাধিক বাংলাদেশি আছেন। তবে বর্বরোচিত হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here