ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মত বাংলাদেশও সফরের আগে নিরাপত্তা দল পাঠাক

48

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ড ক্রাইস্টচার্চে জঙ্গি হামলায় নিঃস্তব্ধ হয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহল। ক্রাইস্টচার্চ হামলা থেকে অল্পের জন্য অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। হামলার দিন হ্যাগলি ওভালে নামাজ পড়তে যান কিছু ক্রিকেটার। কিন্তু তাদের সাথে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলো না।

যেখানে বাংলাদেশে কোনো দেশের খেলোয়াড়রা সফরে আসলে সম্পূর্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই তাদের নিয়ে আশা হয় সেখানে বাংলাদেশ সফর করলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকেনা কেনো তা নিয়ে হচ্ছে আলোচনা-পর্যালোচনা।

এই বার বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সামনে এখন বিদেশ সফরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি এসে গেছে। শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ বললেন, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেরও নিরাপত্তা দল পাঠানো হোক, ‘এখানে যখন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ড আসে তখন পুরো সিকিউরিটি দল আসে। আমাদের হোটেল চেক করে, রাস্তাঘাট দেখে। কোন রাস্তা দিয়ে বাস আসবে এবং কোন দিক দিয়ে হোটেলে যাবে প্রতিটি জিনিস দেখে। এমনকি প্রতিটি ভেন্যুতেই যায়। আমার মনে হয় বাংলাদেশেরও এমন করা উচিত।’

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর এখন বিসিবির ভাবনা আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট ও ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ। সর্বশেষ ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি চলাকালে লন্ডনে ঘটেছিল সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে তাই সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় আইসিসি বিষয়টি নিয়েও তৎপর হয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অংশগ্রহণকারী সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। যেকোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠিয়ে থাকে আইসিসি। তবে ক্রাইস্টচার্চে ওই হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আরো বেশি কঠোর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

শনিবার বিসিবিপ্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আইসিসি সব সময়ই কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে। তারা আমাদের কাছে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। সব সদস্যদেশের সঙ্গে তারা আবার কথা বলছে। এ ঘটনার পর আইসিসি এখন আরো সতর্ক হবে, আরো সচেতন হবে। আপনারা জানেন, আগে কিছু ঘটনা ইংল্যান্ডেও ঘটেছে। নিউজিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর আরো সতর্কতা বাড়বে। যে বোর্ডগুলো নিরাপত্তা নিয়ে একটু উদার থাকে, আয়োজক দেশের ওপর নির্ভর করে, তারাও হয়তো ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে আরো সতর্ক থাকবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here