‘আল্লাহর ওয়াস্তে বেশি অধিনায়ক বানায়েন না’

অধিনায়কত্বের বিতর্ক নিয়েই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ড শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই টাইগাররা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের কাছে পরাজয়ে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ক্রমশ কমছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

দলের এমন ব্যর্থতায় বারংবার নেতৃত্ব বদলের প্রভাব আছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। আগামী দিনে ভিন্ন ফরম্যাটে ভিন্ন ভিন্ন অধিনায়ক বানানোর পক্ষে নন তিনি। এজন্য অনুরোধ করে দেশসেরা এই কোচ বলেছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে বেশি অধিনায়ক বানায়েন না।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ছিলেন তামিম ইকবাল। যদিও বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে আফগানিস্তান সিরিজে কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের জের ধরে আচমকা ক্রিকেট থেকে অবসরে যান তিনি।

তারপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্রিকেটে ফিরলেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেন তামিম। অপরদিকে নেতৃত্ব পেয়ে যান সাকিব আল হাসান। গত কয়েক বছরে আগেই টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নেতৃত্ব বুঝে নেন সাকিব। ধারণা করা হচ্ছিল, সাকিবের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই ভারতে খেলতে যাবে বাংলাদেশ।

কিন্তু সাকিব-তামিমের সম্পর্ক ক্রমশ অবনত হওয়ায় এবং এর জের ধরে তামিম ওপেনিং ব্যতীত অন্য পজিশনে ব্যাটিং করতে না চাওয়ায়, শেষ মুহূর্তে তামিমকে ছাড়াই বিশ্বকাপে যায় বাংলাদেশ। সামগ্রিকভাবে ক্ষতিটা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই, কেননা বিশ্বকাপে জয়ের ধারায় নেই বাংলাদেশ।

ড্রেসিং রুমে একের বেশি অধিনায়ক কখনোই ভালো ফলাফল আনবে না বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ধরেন আমি সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক। একজন ধরেন বিশ্বকাপের অধিনায়ক আরেকজন টেস্ট দলের অধিনায়ক। আমি যখন লাল বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক, আমার কাছে কিছু প্লেয়ার থাকবে যারা আমার আশে পাশে ঘুরঘুর করবে। যখন একটা সাদা বলের অধিনায়ক আসে, তখন সে ওখানে থাকলে বলবে, তুই এখান থেকে ভাগ।’

আস্তে আস্তে এগুলো সৃষ্টি হয়। ধরেন সাদা বলের কোনও অধিনায়ক খারাপ করছে, লাল বলের কেউ হয়ত ভালো। তখন লাল বলের অধিনায়ক বলবে ওর অধিনায়কত্ব হয় না, ওর ফিল্ডিং সেট আপ হয় না। এরে খেলাচ্ছে, ওরে খেলাচ্ছে। এই যে সংস্কৃতিটা শুরু হয়, সেটা খারাপ। একটা দেশে লিডার দশজন হয় না, একজনই হয়। আপনি একজনকেই লিডার বানান, যে সবকিছু দেখবে। দশজনকে বানান, মাথাটা ঘুরে যাবে।’

দেশের এক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে মূলত নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্ব করা নিয়ে। ইনজুরির কারণে ভারতের বিপক্ষে খেলেননি সাকিব। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে শান্তর চেয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভালো করতে পারতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবেই এসব বলেন সালাহউদ্দিন।

দেশসেরা এই কোচ আরও বলেন, ‘ড্রেসিং রুমে আল্লাহর ওয়াস্তে বেশি অধিনায়ক বানায়েন না। বেশি অধিনায়ক হয়ে গেলে কী হয় সেটা আপনারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও আপনারা টের পাবেন। এখন হয়ত ভালো বন্ধুত্ব আছে। দুদিন পর আপনারা পাঁচটা অধিনায়ক বানিয়ে দেবেন। তখন দেখবেন ড্রেসিং রুমের অবস্থা কী হয়। আমি হাত জোড় করে বলছি, আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা ড্রেসিং রুমে বেশি অধিনায়ক বানায়েন না।’